মেনু নির্বাচন করুন

ছবি
শিরোনাম
উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
বিস্তারিত

বাংলাদেশ মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার করেছে। ইতিমধ্যে আমরা মহান ভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছর পার করেছি। নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাও আমরা রক্ষা করে চলেছি। আমাদের চেষ্টা ও আন্তরিকতার কমতি নেই। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে আপন মহিমায় নিজস্বতা নিয়ে। স্বাধীনতা লাভের ৪৭ বছর পর উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতার স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসার স্বীকৃতি পেল। এর ফলে জাতিসংঘের বিবেচনায় উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। এত বড় অজের্নর পরেও আজও আমাদের অথৈর্নতিক মুক্তি পুরোপুরি আসেনি। সামাজিক-রাজনৈতিক, শিক্ষা, মানবাধিকার, ব্যাংকিং খাত ও আইনের শাসনজনিক গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ততটা সুখকর নয়। যদিও বিদেশিদের মুখে প্রায়ই উচ্চারিত হয় বাংলাদেশ হচ্ছে এশিয়ার বাঘ। বছর দুয়েক আগেও এক রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা বেশ পরিশ্রমী। তিনি আরও বলেছিলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ তার এ মন্তব্য ভুল ছিল। এ কথার সত্যতা যাচাই করার আর সুযোগ নেই। কারণ বাঙালি অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে আমরা জাহাজ নিমার্ণ শিল্পে এগিয়ে গেছি। জাহাজ রপ্তানিসহ যুদ্ধজাহাজও নিমার্ণ করতে সক্ষম হয়েছি। এভারেস্ট জয় করেছি আমরা এবং মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্তা অজর্ন করেছি (যদিও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না এবং চাল আমদানি করতে হচ্ছে)। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দেশে ৬০ ভাগ খাদ্য উৎপাদিত হতো। বাকি খাদ্য আমদানি করতে হতো। আমরা তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে সাফল্য অজর্ন করেছি। পাটের জন্মরহস্য আবিষ্কৃত হয়েছে। আমরা সমুদ্র জয় করেছি। তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। আমরা যদি এমনিভাবে সব সেক্টরে অগ্রগতি লাভ করতে পারি তাহলে বাংলাদেশ একসময় যেমন অথৈর্নতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, তেমনি দ্রæত উন্নত দেশের কাতারে গিয়ে দঁাড়াবে। আমরাও হব একটি সফল ও মযার্দাবান রাষ্ট্রের নাগরিক।

কথা সত্য, মহাজোট সরকার কৃষকস্বাথর্ সংরক্ষণের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে, জেলা পযাের্য় কিছু কমর্সংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও শেষ পযাের্য়। ইতিমধ্যে কাদের মোল্লা (১২ ডিসেম্বর ২০১৩), কামারুজ্জামান (১১ এপ্রিল ২০১৫), সাকা চৌধুরী (২১ নভেম্বর ২০১৫) , মুজাহিদ (২১ নভেম্বর ২০১৫), নিজামী (১০ মে ২০১৬) এবং কাসেম আলী (৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬) এই ছয় জনের ফঁাসি কাযর্কর হয়েছে। আমৃত্যু কারাদÐ প্রাপ্ত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে আছে। এর আগে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় মারা যায় জামায়াতের গোলাম আযম ও বিএনপি নেতা মো. আবদুল আলীম। বাকিদের বিচারও সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায়। মহাজোট সরকারের এসব উদ্যোগ ও তৎপরতা দেশের জন্য ইতিবাচক। হাতিরঝিল প্রকল্প, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী, বনানী, মগবাজার ফ্লাইওভারসহ বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নিমার্ণ এসবও ভালো উদ্যোগ। পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। আগামীতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে হবে সরকারকে। ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে পূবের্কার কাজের ও নানা ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের। সরকারের যেসব কমর্কাÐে গণঅসন্তোষ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে ওইসব কাজ থেকে বিরত থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অগ্রসর হতে হবে। যে কোনো কল্যাণরাষ্ট্রের শাসকদের কতর্ব্যও তাই। গণতন্ত্রের জয়ধ্বনি করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকারকেই। অন্যদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ঝুঁকি, মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রয়েছে বিনিয়োগ স্থবিরতা। প্রতিদিনই সড়কে মহা সড়কে প্রাণ ঝরছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। এ বিষয়টিও সরকারকে মাথায় রাখতে হবে। এতসব সমস্যার সমাধান একে একে করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি।

কেবল ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করলেই হবে না। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানও করতে হবে। এর আগেও বলেছি, জনস্বাথের্কন্দ্রিক কাজ বা পরিকল্পনা সফল করা আর আদশির্ক কাজ বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এক নয়। আদশির্ক কাজ বা পরিকল্পনা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফঁাসির রায় কাযর্কর করা, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ ঘটানো, বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়াসহ দেশকে আধুনিক প্রগতিশীল ধারায় পরিচালিত করা। আর জনস্বাথর্ সংরক্ষণ করা মানে হচ্ছে রাষ্ট্র বা সরকারের দ্বারা জনগণ সরাসরি উপকৃত হওয়া। আদশির্ক কাজের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত কাজের দিকেও সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে।

বিগত প্রায় ১০ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছে এর কৃতিত্ব সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আন্তজাির্তক বিশ্বে তিনি একজন দক্ষ শাসক হিসেবে সমাদৃত ও স্বীকৃত। নানা সমস্যা সঙ্কট মোকাবেলা করে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক দূরদশির্তার পরিচয় দিয়ে আসছেন। দেশের অভ্যন্তরেও তার গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ যে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত এর কৃতিত্বও প্রধানমন্ত্রীর। আন্তজাির্তক মন্দাকে উপেক্ষা করে দেশের জিডিপির সূচক উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিকনিদের্শনার ফসল। যে কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গণ্য করে বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। এর রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অজর্ন করেছেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিককালে মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গেøাবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়াডর্ অজর্ন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সবাির্ধক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ‘খালিজ টাইমস’ রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ¡সিত প্রশংসা করে তাকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশের উন্নয়নের রূপকার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে দেশবাসীর পক্ষ থেকে গণসংবধর্না দেয়া হয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান প্রভৃতি দেশের মতো উচ্চ আয়ের দেশে নিয়ে যাবেন ২০৪১ সালে মধ্যে। আমরা আশাবাদী। কারণ ইতিমধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ও জাতি সংঘ সেই আভাষ দিয়েছে।

সামনে জাতীয় সংসদ নিবার্চন। আওয়ামী লীগ আশাবাদী তারা আবার সরকার গঠন করবে। অন্য দিকে বিএনপি দ্বিধাগ্রস্ত, তাদের নেত্রী জেলে যাওয়ার কারণে। তারা নিবার্চন করবে কি করবে না তা নিশ্চিত নয়। ক্ষমতার ট্রেন একবার মিস করলে ওই ট্রেনে ওঠা খুবই কঠিন এই সত্য বিএনপি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছে। বিএনপিকে এও মনে রাখতে হবে, সরকারবিরোধী ও নিবার্চন বাতিল এবং প্রতিরোধের আন্দোলন করে কিন্তু মহাজোট সরকারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে ঠিকই সরকার গঠন করেছে। ক্ষতি হয়েছে দেশ ও জনগণের। এক বছরে পঁাচ শতাধিক মানুষ মারা গেছে। জাতীয় সম্পদের অশেষ ক্ষতি হয়েছে এবং হাজার হাজার বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করা হয়েছে। এর ফলে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আর বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েছে। মনে রাখতে হবে, ক্ষমতায় যাওয়ার মূল শক্তি ও সুযোগ হচ্ছে জাতীয় নিবার্চন। দেশ যতটুকু পিছিয়ে রয়েছে এর জন্য এককভাবে মহাজোট সরকার দায়ী নয়, বিএনপিও দায়ী। পায়ে পায়ে অনেক পথ পেরিয়ে এসেছি আমরা। এত বছর পরও স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো কতটুকু প্রতিফলিত করতে পেরেছি, তা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগে। আমরা আসলে কী চেয়েছিলাম আর কী পেয়েছি? আমরা চেয়েছিলাম গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। আমরা চেয়েছিলাম অথৈর্নতিক মুক্তি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা কি তা পুরোপুরি পেয়েছি?

বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বিবিএসের জরিপে বতর্মানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ। কমর্ সংস্থানের দিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ দেশে যে ভাবে শিল্পায়ন হওয়ার কথা ছিল ঠিক সেভাবে হয়নি। ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ করা যায়নি। দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন তীব্র অথর্ সঙ্কট চলছে। আমাদের স্বপ্ন ছিল, এ দেশের মানুষ যাতে না খেয়ে কষ্ট না পায়, আমাদের দেশের মানুষ যাতে অশিক্ষিত না থাকে, তার ব্যবস্থা করা। আমরা তার কতোটা পেরেছি? দেশ বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত হলেই স্বাধীন হয় না। পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন সাবের্ভৗম দেশ হিসেবে নাম খোদাই করা হলেই তার শান্তি-সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না। রাষ্ট্রকে হতে হয় গণতান্ত্রিক। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের যেমন পরিবতর্ন হয় না, স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদও তারা গ্রহণ করতে পারে না।

আশার কথা, স্বাধীনতার ৪৭ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬ গুণ। ১৯৭১ সালের পর এদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারের কাছাকাছি। এখন তা ১৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। কেবল মাথাপিছু আয় বেড়েছে তা নয়, অথৈর্নতিক ও সামাজিক সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিক হয়েছে। অজর্ন করেছে বিস্ময়কর সাফল্য। তারপরেও আমাদের অজর্ন আর বিসজর্নকে পাশাপাশি দঁাড় করিয়ে আত্মমূল্যায়ন করতে হবে। বিবেককে জাগ্রত করে আত্মশুদ্ধির দিকেও যেতে হবে। এটা ব্যক্তির জন্য যতটা না বেশি প্রযোজ্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আরো বেশি প্রযোজ্য। একইভাবে প্রযোজ্য সরকারের জন্যও। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে আমরা তো অনেক বিসজর্ন দিলাম আর কত? এবার অজর্নই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।